সংঘাতের রাজনীতিতে আট দলের হুঙ্কার: সংকট বাড়াচ্ছে জামায়াত-চরমোনাই জোট

ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা যখন সামান্য হলেও কমতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ আটটি সমমনা দলের পল্টনের সমাবেশ নতুন করে সংঘাতের রাজনীতির জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সমাবেশকে ‘রাজনৈতিক অপরিণামদর্শীতা’ এবং ‘সংস্কার প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃত বাধা’ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১. সাংবিধানিক চরমপন্থা ও গণভোটের ‘প্রহসন’
সমাবেশ থেকে উত্থাপিত ‘নভেম্বর মাসেই গণভোট’ আয়োজন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে সাংবিধানিক আদেশ জারির দাবিগুলো নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

সংবিধান লঙ্ঘনের চেষ্টা: দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তড়িঘড়ি করে গণভোটের দাবি তোলাটা অবাস্তব ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে অগ্রাহ্য করার শামিল। এ যেন একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো চাপিয়ে দেওয়ার ‘চরমপন্থা’। সমালোচকদের মতে, এই দলগুলো গণভোটের আড়ালে মূলত তাদের বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, যা দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সংস্কারের পথে কাঁটা: দেশের মূল রাজনৈতিক দলগুলো যখন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংস্কারের পথ খুঁজছে, তখন এই জোটের আল্টিমেটাম দেওয়া বিভেদের রাজনীতি উসকে দিচ্ছে। এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগগুলো বিলম্বিত হওয়ার এবং দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ আরও অন্ধকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

২. জনদুর্ভোগ ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ শক্তির প্রদর্শনী
সোমবারের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে পল্টন, গুলিস্তান এবং এর আশপাশের প্রধান সড়কগুলোতে দিনব্যাপী চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে হাসপাতালগামী মানুষ এবং অফিসযাত্রীদের ভোগান্তি ছিল চরমে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পথচারী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন,

❝একদল সরকারের বিরুদ্ধে লড়ছে, আরেক দল এখন নিজেদের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির জন্য আমাদের জিম্মি করছে। এদের কাছে সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো দাম নেই। এই ‘শক্তির মহড়া’ শুধু তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই।❞

৩. ঐক্যে বিভেদ: ‘ডিল’ রাজনীতি?
এই আট দলের হঠাৎ করে নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে জোর দেওয়াকে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছে অনেকেই। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত ও অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলো তাদের বিশেষ দাবিগুলো আদায়ের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই দলগুলোর নেতারা অতীতেও রাজনৈতিক সুবিধার্থে গোপনে ‘ডিল’ করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সমাবেশ প্রমাণ করে যে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের আকাঙ্ক্ষার চেয়ে নিজেদের ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থ এবং ক্ষমতার দর-কষাকষিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে জুলাইয়ের সফল গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত পরিবর্তনগুলো ভেস্তে যেতে পারে।

স্পেশাল ক্রসপন্ডেন্ট~ রাজ |

ঢাকা, ১১ নভেম্বর ২০২৫:
নিউজ ডেক্স, ভেতরের খবর |

  • Related Posts

    সংবাদটি নিরপেক্ষ ও সংবাদপত্রের ভাষায় মাঝারি আকারে সাজিয়ে দিলাম

    ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক:  ছোটপর্দার অভিনেতা সাইদুর রহমান পাভেলকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ৪৫ সেকেন্ডের ভিডিও নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। কাজল আরেফিন অমির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ…

    নেপালের বন্যায় সহায়তায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা বালেন্দ্র শাহর

    ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: নেপালে সাম্প্রতিক বিধ্বংসী বন্যায় সহমর্মিতা প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০ লাখ মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *