ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা চার দফা দাবিতে আজ সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে গেছেন। এর ফলে ঢাকা ও বিভিন্ন জেলার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় গতকালই নোটিশ জারি করে পরীক্ষা না নেওয়ার কথা জানায়।
আজ সকালে ঢাকার কলেজিয়েট স্কুল, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, শেরে বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়সহ খুলনার করোনেশন গার্লস হাইস্কুলে পরীক্ষা হয়নি বলে শিক্ষকরা নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে এ কর্মসূচি চলছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় যদি দাবিগুলো পূরণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেয়, তবে তাঁরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত।
চার দফা দাবি:
১) সহকারী শিক্ষক পদকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত করে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গেজেট প্রকাশ।
২) বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় শূন্য পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন দ্রুত কার্যকর করা।
৩) সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড মঞ্জুরি।
৪) ২০১৫ সালের আগের নিয়ম অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বেতন সুবিধা ফের বহাল করা।
গতকালও আন্দোলনকারীরা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় আজ থেকে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দেন তাঁরা। দাবিগুলো মেনে নিলে শুক্র ও শনিবারসহ বাকি পরীক্ষাগুলো দ্রুত নিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যেই ফল প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষকরা।
অন্যদিকে জাতীয় বেতন স্কেলে ১৩তম গ্রেডে থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরাও বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণসহ তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন। যদিও রাজধানীর অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজ বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দেশজুড়ে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কোটি শিক্ষার্থী থাকায় প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মসূচি শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সহকারী শিক্ষকদের ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১৬টি অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩ লাখ ৫২ হাজারেরও বেশি শিক্ষক।
শিক্ষাখাতে দুই স্তরের এই কর্মবিরতি চলতে থাকায় বার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচি ও শিক্ষাবর্ষের সমাপ্তি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
@ইয়াসমিন রিমা