ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: সিরিয়া জুড়ে পালিত হচ্ছে আল-আসাদ বংশের দমনপীড়নমূলক ৫০ বছরের শাসন শেষ হওয়ার প্রথম বার্ষিকী। গত সোমবার দেশটি ঘোষণা করে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসন আনুষ্ঠানিকভাবে অবসান হয়েছে। তবে ১৪ বছরের বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধের পর দেশটিকে পুনর্গঠন ও ক্ষত সারানোর কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর নেতৃত্বে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো আলেপ্পো পুনর্দখলের জন্য হামলা চালায়। এইচটিএসের তৎকালীন প্রধান আহমেদ আল-শারাআ বর্তমানে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট। বিদ্রোহীরা বিস্মিত হয় যখন সরকারি বাহিনী খুব কম প্রতিরোধেই আলেপ্পো, এরপর হামা ও হোমস থেকে ভেঙে পড়ে। এতে রাজধানী দামেস্কের পথ খুলে যায়।
দক্ষিণ থেকেও বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ৮ ডিসেম্বর দামেস্ক বিদ্রোহীদের দখলে আসে। এ সময় রাশিয়ার সহায়তায় আল-আসাদকে দেশ ছাড়তে হয় এবং তিনি এখনো মস্কোতে নির্বাসিত।
তবে মিত্রতা বজায় রেখেও আল-আসাদকে রক্ষায় সামরিক হস্তক্ষেপে যায়নি রাশিয়া। বরং নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছে মস্কো এবং উপকূলে নিজস্ব সামরিক ঘাঁটিগুলো আগের মতোই বজায় রেখেছে।
২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে লাখো মানুষ নিহত এবং কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। প্রায় ৫০ লাখ শরণার্থী পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আশ্রয় নেয়।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, আল-আসাদ পতনের পর এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ শরণার্থী এবং ১৯ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ ঘরে ফিরেছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা তহবিল কমে যাওয়ায় আরও অনেকের ফেরা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে সংস্থা সতর্ক করেছে।
এদিকে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, প্রায় ১৫ লাখ শরণার্থী ফিরে আসার ফলে অর্থনীতি চাঙ্গা হতে শুরু করেছে।