ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গোলাগুলি ও বিমান হামলার ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকার বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত গত মে মাসে, যখন সীমান্তে সংঘর্ষে এক কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হয়। এরপর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে আসে। জুলাইয়ের সংঘর্ষের আগেই দেশ দুটি একে অপরের ওপর বাণিজ্য ও পরিষেবা–সংক্রান্ত একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কম্বোডিয়া থাইল্যান্ড থেকে ফল ও সবজি আমদানি বন্ধ করে দেয়; একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা গ্রহণও স্থগিত করে। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় উভয় দেশ সীমান্তে সেনা মোতায়েন আরও বাড়িয়ে দেয়।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) থাই সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, কম্বোডিয়ার ছোঁড়া গুলির পাল্টা জবাব দিয়েছিল তারা। থাই বাহিনীর দাবি, কম্বোডিয়ার গুলিতে উবন রাচাথানি প্রদেশে এক থাই সেনা নিহত হয়। এর পরপরই কম্বোডিয়ান সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, প্রথমে থাইল্যান্ডই আক্রমণ চালায় তাদের প্রেহ ভিহেয়ার প্রদেশে। নমপেন জানিয়েছে, তারা কোনো ধরনের আক্রমণ বা পাল্টা হামলা করেনি; বরং নিজেদের সার্বভৌম অঞ্চল রক্ষায় সতর্ক অবস্থানে ছিল।
পরদিন থাই সেনাবাহিনী অভিযোগ করে যে হামলার সময় কম্বোডিয়া রকেট সিস্টেম, বোমাবাহী ড্রোন ও আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করেছে, যেগুলোর কিছু বেসামরিক এলাকাতেও আঘাত হানে। পরে থাই কর্তৃপক্ষ আরও কয়েকটি নতুন বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
অপরদিকে কম্বোডিয়া অভিযোগ করেছে, থাই বাহিনী নির্বিচারে তাদের পুরসাত প্রদেশের বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেছে, যা স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
উভয় দেশের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, সামরিক তৎপরতা ও সীমান্তে বাড়তি মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।