ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ইসরায়েল আবারও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এসব হামলায় মাউন্ট সাফি, জাবা, জেফতা ভ্যালি এবং আজ্জা–রুমিন আরকি অঞ্চলে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, হামলায় হিজবুল্লাহর রাদওয়ান ফোর্সের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কমপাউন্ড, কয়েকটি ভবন এবং একটি রকেট লঞ্চ সাইট লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এই হামলা আসে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে হওয়া ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি রক্ষায় দুই দেশই সম্প্রতি বেসামরিক প্রতিনিধি পাঠিয়েছে যৌথ সামরিক কমিটিতে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা রোধ করতেই তারা আলোচনার পথ বেছে নিয়েছেন।
জাতিসংঘের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে অন্তত ১২৭ বেসামরিক নাগরিক, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে, নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এসব হামলাকে সম্ভাব্য “যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
গত সপ্তাহে ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক নেতা হায়থাম আলী তাবাতাবাইকে হত্যা করলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। গত বছরের সংঘাতে দুর্বল হয়ে পড়া হিজবুল্লাহ এখনো এ ঘটনার প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইসরায়েল অভিযোগ করছে, লেবানন হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে লেবানন সরকার দাবি করছে—সেনাবাহিনী দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সশস্ত্র অবকাঠামো ভাঙতে কাজ করছে এবং যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে আরও শক্ত ভূমিকা চায় তারা। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ও ফরাসি সেনাদের মাঠে নামানোর বিষয়েও সম্মতি দিয়েছে বৈরুত।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় আশঙ্কা বাড়ছে, তারা কি আরও বড় ধরনের অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে?