অভিযোগসূত্রে জানা যায়, সহকারি শিক্ষক তপতী বাড়ৈ ঘাঘরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে শ্রেণিকক্ষে ঠিকমত পাঠদান করেন না। তার ইচ্ছেমত বিদ্যালয়ে আসেন ও বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। শ্রেণিকক্ষে ঠিকমত পাঠদানের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের অযথা বকাঝকা করেন। তার ভয়ে চুপ করে থাকেন প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকেরা।
এদিকে তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিদ্যালযের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মো: আহসান।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নমিতা মন্ডল বলেন, আমি গতবছর পদোন্নতি পেয়ে এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেই। সে সময় তপতী বাড়ৈ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলো। আমি আসার পর তার নিকট থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করি। সে আর্থিক বিষয়ে সঠিকভাবে হিসাব দিতে পারে নাই। তিনি বিদ্যালয়ের কোন নিয়ম শৃংঙ্খলা মানেন না। খেয়াল খুশি মত বিদ্যালয় থেকে বাসায় চলে যান। শ্রেণিকক্ষেও ঠিকমত ক্লাস নেননা। তার বিষয়ে একাধিকবার শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তারা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
তিনি আরো জানান, তপতী বাড়ৈ ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারী এই স্কুলে যোগদান করেন। এরপর অনেক শিক্ষকই তার আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়ে এখান থেকে অন্যত্র চলে গেছেন।
শিক্ষার্থী অভিভাবক শাহাদাত গাজী বলেন, তপতী বাড়ৈ একজন শিক্ষক হওয়ার যোগ্য নন। তিনি ক্লাসে গিয়ে লেখাপড়া না করিয়ে বকঝকা করে ছাত্রছাত্রীদের আতংকের মধ্যে রাখেন। তার বিরুদ্ধে আমরা বহুবার প্রধান শিক্ষক, সহকারি শিক্ষকসহ শিক্ষা কর্মকর্তাদের অভিযোগ দিয়েছি কোন কাজ হচ্ছে না। তাকে সংশোধন হওয়ার কথা বললে ভয়ভীতিও দেখান। এখানে কোন শিক্ষক এসে থাকতে চান না তার নানা অত্যাচারে। ইতিপূর্বে এক এক কর্মকর্তাকে ফাসিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। আমরা দ্রুত তপতী বাড়ৈর স্থায়ী বদলী চাই। শিক্ষা অফিস সে ব্যবস্থা না করলে আমরা মানববন্ধনসহ নানা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছু এক শিক্ষার্থীর মা বলেন, তপতী ম্যাডাম নিজেকে অনেক বড় স্যার হিসেবে মনে করেন। তাকে কিছু বলতে গেলে উল্টো আমাদের কথা শুনিয়ে দেন। এমন ব্যক্তি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিভাবে চাকরি করে বুঝতে পারি না।
এ অভিযুক্ত তপতী বাড়ৈ সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন যা বলার তদন্ত কমিটির কাছে বলবো।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে তপতী বাড়ৈর বিষয়ে তদন্ত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার চিঠি দিয়েছেন। অন্যদিকে দুইজন সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আজ ১১ নভেম্বর সরকারি কর্মকর্তাগন বিদ্যালয়ে তদন্তের জন্য যাবেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফ এম মিরাজুল সৈকত , 11.12.2025
01811953261