ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই রাজধানীতে এক সম্ভাব্য প্রার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একই দিনে দেশের দুই জেলায় উপজেলা ও জেলা নির্বাচন অফিসে অগ্নিসংযোগ, ঢাকায় পাসপোর্ট অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ এবং চলন্ত বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে ঢাকার বাড্ডা এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। তার সংগঠনের কর্মীরা জানান, তিনি ওই সময় নির্বাচনী প্রচারণার কাজ করছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান।
একই দিন গভীর রাতে লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত প্রায় ৩টা ৫৫ মিনিটে মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে একটি কক্ষে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসাইন জানান, মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই পুরো ঘটনা ঘটানো হয়। এতে কিছু নথিপত্র পুড়ে গেলেও আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিসংক্রান্ত কাগজপত্রের ক্ষতি হয়নি। এ ঘটনায় নাশকতার মামলা করা হয়েছে।
একই রাতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসেও আগুন দেওয়ার চেষ্টা হয়। তবে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বাসুদেব সরকার।
শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকার আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এতে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এছাড়া বাড্ডা লিংক রোডে একটি চলন্ত বাসে আগুন দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাটি নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সহিংস ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। তিনি ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট–ফেইজ টু’ অবিলম্বে শুরুর ঘোষণাও দেন।
নির্বাচন কমিশনও সারাদেশের নির্বাচন অফিসে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে। আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ আসবে। তবে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজন করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। গুটিকয়েক নাশকতাকারী নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারবে না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তফসিল ঘোষণার পরপরই এমন সহিংসতা ভোটের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।