ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের কর্দোফান অঞ্চলে ড্রোন হামলায় অন্তত ১০৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। দেশটির সেনাবাহিনী (SAF) ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF)-এর মধ্যে চলমান তীব্র সংঘর্ষের মধ্যেই এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিসেম্বরের শুরু থেকে কর্দোফানের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলা জোরদার হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ কর্দোফানের কালোগি এলাকায় একটি কিন্ডারগার্টেন ও একটি হাসপাতালে হামলায় ৮৯ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৪৩ শিশু ও আট নারী রয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
এদিকে ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ কর্দোফানের রাজধানী কাদুগলিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ হামলাকে ‘ভয়াবহ’ উল্লেখ করে বলেন, শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
একই সঙ্গে ডিলিং সামরিক হাসপাতালেও হামলার ঘটনা ঘটে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানায়, এতে অন্তত নয়জন নিহত ও ১৭ জন আহত হন। তবে জাতিসংঘের হিসাবে নিহত ছয়জন এবং আহত ১২ জন।
সুদানের সেনাবাহিনী এসব হামলার জন্য আরএসএফকে দায়ী করলেও এখন পর্যন্ত অভিযোগের জবাব দেয়নি গোষ্ঠীটি।
সহিংসতার পাশাপাশি কর্দোফানে মানবিক পরিস্থিতিরও মারাত্মক অবনতি হয়েছে। উত্তর কর্দোফানে কলেরায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৭৩০ জন। সংঘাতের কারণে রাজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
জাতিসংঘ জানায়, শুধু উত্তর কর্দোফান থেকেই ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কাদুগলি ও ডিলিংয়ের মতো শহরে বহু মানুষ অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সুদানের এই গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জাতিসংঘের হিসাব, যদিও মানবিক সংস্থাগুলোর মতে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। বর্তমানে দেশটিতে দেড় কোটিরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


