বিষাদ বিবরণ; ধিক্কার!
ওসমান হাদীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে অগ্নিসংযোগ, এটি একটি জঘন্য ও ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। কিছু দুষ্কৃতিকারী গোষ্ঠীর অযৌক্তিক দাবি আদায়ের নামে এ ধরনের উন্মত্ত ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড কোনো আন্দোলনের ভাষা হতে পারে না। বরং এটি বিকারগ্রস্ত চিন্তাধারায় আবৃত এক বিকৃত প্রতিবাদ, যা সমাজ ও রাষ্ট্র উভয়ের জন্যই মারাত্মক অশুভ।
দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জাতীয় সম্পদ বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া কখনোই ন্যায্য দাবি আদায়ের পথ হতে পারে না। এ ধরনের বর্বর আচরণ সভ্য সমাজের মূল্যবোধকে পদদলিত করে এবং জাতির অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়।
শান্তি বিনষ্টকারী ও অরাজকতাসৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে এখনই সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন অবস্থান গ্রহণ করা জরুরি। কারা দেশের জন্য ক্ষতিকর তা বুঝতে আজ আর বিশেষ বুদ্ধিবৃত্তিক কসরতের প্রয়োজন হয় না। জাতীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধি, নিরাপত্তাহীনতার বিস্তার এসবই স্বার্থান্বেষী চক্রের হীন ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ। ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির এই বিষাক্ত অভিঘাতে মানুষের মনন বিপর্যস্ত হচ্ছে; মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় আমাদের বিবেককে প্রতিনিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এ কোন নির্মম বিষাদের প্রতিচ্ছবি?
এ কোন পশুত্বের প্রকাশ?
চারদিকে শুধু দাহ, আতঙ্ক আর অগ্নিসন্ত্রাস!
অরাজকতার উপর দাঁড়ানো এসব তথাকথিত আন্দোলন কোনো শ্রেণির মানুষের সমর্থন আদায় করতে পারে না। জনগণকে প্ররোচিত করার এই ব্যর্থ প্রচেষ্টা অতীতেও সফল হয়নি, ভবিষ্যতের বাংলাদেশেও সাফল্যের মুখ দেখবে না এ বিশ্বাস দৃঢ়। সময়ের ধারায় বাঙালি তরুণ সমাজ আজ অনেক বেশি সচেতন, যুক্তিবাদী ও সত্যনিষ্ঠ।
রূপকথার গল্পের মতো এসব সাজানো নাটক মানুষ এখননসহজেই অনুধাবন করতে পারে। নির্দিষ্ট স্বার্থবাব্দী নিজস্ব মহলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ‘যে কোনো মূল্যে সহযোগিতা’র আহ্বানের বিরুদ্ধে বাংলার সাহসী জনগণ বারবার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবারও ব্যতিক্রম হবে না। ইতিহাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ জাতি অন্যায়ের কাছে মাথানত করেনি। যারা পরিকল্পিতভাবে কুৎসিত চক্রান্ত বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করে, তারা রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের সঙ্গেই নিজেদের যুক্ত করে।
@দিখুব শিগগিরই বাংলার সচেতন মানুষ বজ্রনিনাদ কণ্ঠে এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে এই প্রত্যাশা অটুট।
যদি কোনো বিবেকবান নাগরিক এ ধরনের অবৈধ ও সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নীরব থাকে, যদি সে নিজের কণ্ঠ স্তব্ধ করে রাখে কিংবা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংকীর্ণ স্বার্থ বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করে তবে সেই নীরবতাও অপরাধেরই নামান্তর। মানবের অবয়বে আবির্ভূত এসব অমানবিক শক্তি কখনোই দেশপ্রেমীক দাবি করতে পারে না, পারবেও না।।
ধিক্কার!
Rashidul Hasan
19/12/2025
A Glassy Morning…


