ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ইসরায়েলি বোমা হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজার ভবনগুলোই এখন অনেক ফিলিস্তিনি পরিবারের আশ্রয়স্থল। প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজার অধিকাংশ ভবন ধ্বংস হয়ে গেলেও কিছু আধাভাঙা ঘরে ফিরে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বাসিন্দারা।
গাজা সিটির জাবালিয়ায় হালাওয়া পরিবারের আধা-ধসে পড়া বাড়িটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে। ছাদের একাংশ ভেঙে পড়েছে, বেরিয়ে আছে বাঁকানো রড। ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সিঁড়ি বেয়ে ঘরে উঠতে হয়। তবুও শীতের বৃষ্টিতে প্লাবিত তাঁবুতে থাকার চেয়ে এই ভাঙা ঘরেই ফিরেছেন তারা।
ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাজার ৭০ শতাংশেরও বেশি স্থাপনা এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় পুরো জনসংখ্যা। অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে নতুন করে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রবেশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।
পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই দৈনন্দিন জীবন চালিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা। কেউ ভাঙা ঘরে রান্না করছেন, কেউ ধুলো ঝেড়ে কার্পেট পেতে নিচ্ছেন, আবার কেউ খোলা দেয়ালের পাশে বসে সন্তানের পড়াশোনা বা বিনোদনের ব্যবস্থা করছেন।
তবে এই জীবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ডিসেম্বর মাসের এক সপ্তাহেই ভবন ধসে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তারপরও আশা ছাড়ছেন না গাজার মানুষ। দেয়ালে আঁকা ছবি, পরিবারের জন্য লেখা বার্তা আর দৈনন্দিন ছোট ছোট কাজে তারা টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন -ধ্বংসস্তূপের মাঝেই স্বাভাবিক জীবনের খোঁজে।


