ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলটির সর্বোচ্চ পদটি শূন্য হলেও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে এসেছেন তারেক রহমান। যদিও দলীয়ভাবে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন তারেক রহমানই বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারার (৩) উপধারায় বলা হয়েছে, কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ওই দায়িত্বে বহাল থাকবেন। সে অনুযায়ী দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন।
গত ৩০ ডিসেম্বর দীর্ঘ প্রায় চার দশক বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়া খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মাধ্যমে দলটির চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। ১৯৮৪ সালের ১০ মে থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ দায়িত্বে ছিলেন।
দলীয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গঠনতন্ত্রের ৭(গ) ধারার উপধারা (২) অনুযায়ী চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে সব দায়িত্ব পালন করবেন। সে ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দল পরিচালনা করছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, সাংগঠনিক শূন্যতা পূরণ ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী এক-দুদিনের মধ্যেই স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, “খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নয়, পুরো দেশই অভিভাবকহীনতায় ভুগছে। তারেক রহমানও গভীর শোকে আচ্ছন্ন। এ অবস্থায় পদ-পদবি নিয়ে কারও ভাবনা নেই। তবে বাস্তবতা হলো তারেক রহমানই এখন দলের চেয়ারম্যান।”
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী থানা বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন। ২০০৭ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হয়ে ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে তিনি গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন।
@ইয়াসমিন রিমা