ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ চার দশকের এক প্রভাবশালী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অবসান হলো তার সঙ্গে শেখ হাসিনার বহুল আলোচিত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগ।
ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত খালেদা জিয়ার জানাজায় দল-মত নির্বিশেষে বিপুল মানুষের উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। জানাজায় অংশ নিতে আসা ৬৮ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি কখনো সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তবে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকা ও অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়ার প্রতি সহানুভূতি থেকেই তিনি জানাজায় অংশ নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই জানাজায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে—খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেত্রীই ছিলেন না, বরং তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত হয়েছিলেন।
স্বামী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর আকস্মিকভাবে রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়ে তিনি নিজেকে দেশের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিণত করেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এই দুই নেত্রীকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘ সময় ধরে আবর্তিত হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতি। ক্ষমতার পালাবদল, আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্বাচন ও সংঘাত সব ক্ষেত্রেই খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার দ্বন্দ্ব ছিল কেন্দ্রীয় বিষয়।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর খালেদা জিয়া রাজনীতির মঞ্চ থেকে বিদায় নিলেন চিরতরে। অন্যদিকে, শেখ হাসিনা প্রায় দেড় বছর আগে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই অবস্থান করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়, খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু একজন নেত্রীর প্রস্থান নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা–হাসিনা অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি। এখন দেশ এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে পুরোনো এই দ্বন্দ্বের জায়গায় নতুন নেতৃত্ব ও নতুন সমীকরণ তৈরি হবে।