ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: জীবনযাত্রার ঊর্ধ্বমুখী ব্যয়ের প্রতিবাদে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স এই তথ্য জানিয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় লোরেস্তান প্রদেশের লোরদেগান, আজনা ও কুহদাশ্ত শহরে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংস্থা হেঙ্গাও জানিয়েছে, এসব সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এদিকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, কুহদাশ্তে সংঘর্ষের সময় বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট এক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, নিহত ব্যক্তি তাদেরই একজন, যাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন পুলিশ ও বাসিজ সদস্য আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা গেছে।
অর্থনৈতিক সংকটই মূল কারণ
মূলত ইরানি মুদ্রার বড় ধরনের দরপতন ও মূল্যস্ফীতির কারণে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। খোলা বাজারে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মূল্য ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় প্রথমে দোকানদাররা রাস্তায় নামেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেন। সরকারি হিসাবে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ৩৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলেছে।বিক্ষোভকারীদের অনেকেই দেশের সর্বোচ্চ নেতার শাসনের অবসান দাবি করছেন, কেউ কেউ রাজতন্ত্র পুনর্বহালের স্লোগানও দিচ্ছেন।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, “আমরা পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।”
এর জবাবে ইরান কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলী শামখানি বলেছেন, কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না এবং জাতীয় নিরাপত্তা ইরানের জন্য ‘লাল রেখা’। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাইও যুক্তরাষ্ট্রের অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে বলেছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের সুযোগ দেওয়া হবে না।
এদিকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সংকট নিরসনে সংলাপের আশ্বাস দিয়েছেন এবং পরিস্থিতির জন্য সরকারের ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি-আজাদ সতর্ক করে বলেছেন, অস্থিরতা সৃষ্টির যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, যা ইরানের জন্য নতুন করে বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট তৈরি করতে পারে।


