ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে আসা এক শিক্ষককে শারীরিক হেনস্তার মাধ্যমে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সামনে চাকসুর (ছাত্র সংসদ) কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটে।
হেনস্তার শিকার শিক্ষক হলেন আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর এবং ক্যাম্পাসে রাজনৈতিকভাবে একটি হলুদ দলের সঙ্গে যুক্ত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাকসুর নেতারা তাঁকে টেনে নিয়ে গিয়ে প্রক্টর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রাখেন এবং তাঁর মুঠোফোনেও তল্লাশি চালান।
ভিডিওতে দেখা গেছে, শিক্ষককে কয়েকজন ছাত্র ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। এই সময় তিনি চিৎকার করছিলেন এবং পরে একটি অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয়। অভিযোগ অস্বীকার করে চাকসুর নেতারা দাবি করেন, শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ পরীক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং তখন তিনি একটি গাছের গুঁড়িতে আঘাত পেয়েছিলেন।
হাসান মোহাম্মদ রোমান অবশ্য জানিয়েছিলেন, তিনি কোনো গণ-অভ্যুত্থান বা হট্টগোলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং কোনো শিক্ষার্থীকে মামলা দেওয়ার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।
পরীক্ষার সমন্বয়কারী মো. ইকবাল শাহীন খান জানান, অভিযোগ বা তদন্ত চলাকালীন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি অনুযায়ী সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী জানিয়েছেন, তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুঠোফোন তল্লাশিসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখছেন।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, হাসান মোহাম্মদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং বেতন স্থগিত রয়েছে। তবে কীভাবে তাঁকে পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা স্পষ্ট নয়।
@ইয়াসমিন রিমা