ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ (২৮) নামের এক যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে নাফ নদী–সংলগ্ন একটি চিংড়িঘেরে এ ঘটনা ঘটে।
আহত হানিফ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দা এবং ফজল করিমের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্যক্তিমালিকানাধীন চিংড়িঘেরে কাজ করার সময় হঠাৎ পুঁতে রাখা স্থলমাইনের বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।
সীমান্তের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রোহিঙ্গা বিদ্রোহী হামলা ঠেকানোর উদ্দেশ্যে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) নাফ নদীর মধ্যভাগে জেগে ওঠা দ্বীপ ও নো ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় নিষিদ্ধ স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। এর আগেও এসব মাইনের বিস্ফোরণে কয়েকজন বাংলাদেশি জেলে আহত হন।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন কান্তি রুদ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চিংড়িঘেরে কাজ করার সময় মাইন বিস্ফোরণে ওই যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সীমান্ত এলাকায় ঝুঁকি বেড়েছে। এ কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষকে না যেতে সতর্ক করা হচ্ছে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, গত কয়েক দিন ধরে মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। ওপার থেকে ছোড়া গুলি, ড্রোন ও মর্টার শেলের অংশ এপারের ঘরবাড়ি ও চিংড়িঘেরে এসে পড়েছে। এতে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি থমথমে হলেও যেকোনো সময় আবার সংঘর্ষ শুরু হতে পারে। এ কারণে সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাংলাদেশিদের না যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
এদিকে, বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।