ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত প্রো-প্যালেস্টাইন কর্মী মাহমুদ খালিলের পক্ষে দেওয়া আগের একটি আদেশ বাতিল করে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আইনি বিজয় এনে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুই–এক ভোটে দেওয়া এই রায়ে আদালত বলেন, খালিলকে মুক্তি দেওয়ার যে নির্দেশ ফেডারেল আদালত দিয়েছিল, সে বিষয়ে ওই আদালতের এখতিয়ার ছিল না।
এই রায়ের ফলে খালিলকে পুনরায় গ্রেপ্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যদিও আদেশটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। মাহমুদ খালিল জানিয়েছেন, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
এক বিবৃতিতে খালিল বলেন, “আজকের রায় হতাশাজনক হলেও এটি আমাদের সংকল্প ভাঙতে পারবে না। ফিলিস্তিন এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।”
সিরিয়ায় জন্ম নেওয়া ও আলজেরীয় নাগরিকত্বধারী মাহমুদ খালিল যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা এবং একজন মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করেছেন। তিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছিলেন। গত বছর অভিবাসন হেফাজতে থাকার কারণে তিনি তাঁর প্রথম সন্তানের জন্মের সময় উপস্থিত থাকতে পারেননি।
ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলবিরোধী ও প্রো-প্যালেস্টাইন অবস্থানের কারণে খালিলসহ একাধিক বিদেশি শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
আদালত বলেন, অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত এখতিয়ার অভিবাসন আদালতের, ফেডারেল আদালতের নয়। ফলে খালিল তাঁর অভিযোগগুলো অভিবাসন আদালত এবং পরবর্তীতে বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসের মাধ্যমে তুলতে পারবেন।
তবে ভিন্নমত দিয়ে বিচারক আরিয়ানা ফ্রিম্যান বলেন, খালিলের মতো ক্ষেত্রে সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অর্থবহ বিচারিক পর্যালোচনা বন্ধ করে দেওয়ার কথা কংগ্রেস কখনোই চায়নি।
এদিকে নিউইয়র্ক সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন জানিয়েছে, এই রায় সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ফেডারেল আদালতের ভূমিকা দুর্বল করে দিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, খালিলকে তাঁর রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা সংবিধানবিরোধী।
খালিলের আইনজীবীরা পুরো থার্ড সার্কিট আদালতে পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারেন এবং প্রয়োজনে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে নেওয়ার পথও খোলা রয়েছে।