বিএনপিতে ‘পুরুষ কোটায়’ নারী প্রার্থী, জামায়াতে নারী প্রার্থী নেই

ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোতে নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ অত্যন্ত সীমিত। বড় দলগুলোর মধ্যে বিএনপিতে অল্পসংখ্যক নারী প্রার্থী মনোনয়ন পেলেও জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামভিত্তিক দলগুলোতে এবার কোনো নারী প্রার্থীই নেই। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা বাড়ছে।

বিএনপি এবার ৩০০ আসনের বিপরীতে শুরুতে ১০ জন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তবে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। শতকরা হিসাবে এটি প্রায় ৩ শতাংশ। দলটির ভেতর থেকেই অভিযোগ উঠেছে—এই মনোনয়নগুলো মূলত ‘পুরুষ কোটায় নারী প্রার্থী’, অর্থাৎ পুরুষ নেতাদের পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, মনোনয়ন পাওয়া নারী প্রার্থীদের অধিকাংশই কোনো না কোনো পুরুষ নেতার পরিবারের সদস্য। তাঁর ভাষায়, এটি প্রকৃত রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি নয়, বরং একধরনের পারিবারিক কোটা।

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নারী-পুরুষ নয়, জয়ের সম্ভাবনাকেই মনোনয়নের প্রধান মানদণ্ড ধরা হয়েছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কারণে মাঠের রাজনীতিতে শক্তিশালী নারী নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী এবার ২৭৬ আসনে প্রার্থী দিলেও একজনও নারী প্রার্থী দেয়নি। দলটির নেতারা বলছেন, নিরাপত্তা, আগ্রহের অভাব ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তারা দাবি করছে, দলে নারীদের প্রার্থী হতে কোনো সাংগঠনিক নিষেধাজ্ঞা নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বিএনপি বা জামায়াত নয়—সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব এখনও প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছে। নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রায় ৩০টি দল এবার কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক কাঠামো, নির্বাচনী ব্যয়ের চাপ, সহিংস রাজনীতির আশঙ্কা এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতাই নারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নারীদের কার্যকর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শুধু সংরক্ষিত আসন নয়, সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য নিরাপদ ও সমান সুযোগ তৈরি করা জরুরি। তা না হলে সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব কেবল সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

  • Related Posts

    আদালতের ১৪৪ ধারার আদেশের পরও নির্মাণকাজের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

    কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের পর্যটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কলাতলী মোড়ে ৩৪ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যেই ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আরএফ বিল্ডার্সের বিরুদ্ধে। আদালতের ১৪৪ ধারার আদেশের পরও সেখানে নির্মাণকাজ চলার অভিযোগে…

    মায়ের হাত ভাঙার কথা জানালেন জামায়াতের এমপি রাহাদ

    ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামী করার কারণে তাঁর বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং তাঁর মাকে মারধর…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *