ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত ঠেকাতে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিতে অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা থেকে বিরত রাখতে পর্দার আড়ালে জোরালো লবিং করছে। একই সঙ্গে কাতার ও ওমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ পুনঃস্থাপনে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ ভেঙে পড়ার খবরে উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, ইরানে মার্কিন হামলা হলে তা গোটা অঞ্চলে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠতে পারে এবং উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে পড়বে।
ইরানে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে শতাধিক সদস্য নিহত হওয়ার দাবি করেছে তেহরান। অন্যদিকে বিরোধী পক্ষের দাবি, নিহত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ইরানিদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানিয়ে ‘সহায়তা আসছে’ বলে মন্তব্য করেন, যা নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা উসকে দেয়।
ইতিপূর্বে ২০১৯ সালে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ইরান কাতারের আল উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। এসব অভিজ্ঞতা উপসাগরীয় দেশগুলোর শঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা হঠাৎ ভেঙে পড়লে ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের পর যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি হতে পারে—যা উপসাগরীয় দেশগুলো কোনোভাবেই চায় না। যদিও তারা ইরানের নেতৃত্ব দুর্বল দেখতে আপত্তি করে না, তবে হঠাৎ শাসন পরিবর্তন বা রাষ্ট্র ভাঙনের আশঙ্কাকে তারা বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।
এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিচ্ছে।


