ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর শুক্রবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই রায় দেন।
আদালতের রায়ে বলা হয়, ইউন সাংবিধানিক নিয়ম লঙ্ঘন করে সীমিতসংখ্যক মন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে সামরিক আইন ঘোষণা করেন, যা মন্ত্রিসভার সম্মিলিত সিদ্ধান্তের নীতির পরিপন্থী। পাশাপাশি তিনি তদন্তকারীদের কাজে বাধা দেন, নিজের গ্রেপ্তার এড়াতে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করেন এবং সামরিক আইন ঘোষণাসংক্রান্ত সরকারি নথি জাল করেন।
বিচারক বেক ডি-হিউন বলেন, “সামরিক আইন কেবলমাত্র ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে জারি করা যেতে পারে। কিন্তু ইউন সুক-ইওল সংবিধান লঙ্ঘন করে একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন।”
২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর উত্তর কোরিয়ার হুমকি ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা’র অভিযোগ তুলে ইউন সামরিক আইন জারি করেন। সে সময় সেনাবাহিনী জাতীয় সংসদ ভবন ঘিরে ফেললেও সংসদ সদস্যরা ভেতরে ঢুকে মধ্যরাতের পর সামরিক আইন প্রত্যাহারের পক্ষে ভোট দেন। এর পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় এবং ১৪ ডিসেম্বর পার্লামেন্ট তাকে অভিশংসন করে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার হওয়া ইউন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট, যিনি গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত হন।
তবে এটিই ইউনের বিরুদ্ধে শেষ মামলা নয়। সামরিক আইন জারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ ও ‘বিদ্রোহে নেতৃত্ব’-এর অভিযোগে আলাদা মামলায় তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন প্রসিকিউটররা। সেই মামলার রায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে দেওয়ার কথা রয়েছে।
ইউনের আইনজীবীরা এই রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন এবং উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।


