ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া বাম ও মধ্যপন্থী মতাদর্শের তরুণদের উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’ (এনপিএ) আত্মপ্রকাশ করেছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে এনপিএর তিন মুখপাত্র ও ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের নাম ঘোষণা করা হয়। তিন মুখপাত্র হলেন লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট ফেরদৌস আরা রুমী, মঈনুল ইসলাম তুহিন (তুহিন খান) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী নাজিফা জান্নাত। কাউন্সিল সদস্য মীর হুযাইফা আল মামদূহ মুখপাত্র ও কাউন্সিল সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।
কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক, ছাত্র ও নাগরিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা স্থান পেয়েছেন। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগকারী চার নেতাসহ ছাত্র ইউনিয়ন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং নাগরিক প্ল্যাটফর্মের একাধিক সাবেক ও বর্তমান নেতা রয়েছেন।
মুখপাত্ররা অনুষ্ঠানে এনপিএর ঘোষণাপত্র পাঠ করেন এবং প্ল্যাটফর্মের পাঁচটি মূলনীতি তুলে ধরেন। এগুলো হলো গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষা। ঘোষণাপত্রে বলা হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান কেবল শাসক পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না, বরং ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ।
ঘোষণাপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের নানা উদ্যোগের পরও দেড় বছর পর এসে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হয়েছে। সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অধিকার প্রশ্নে রাষ্ট্রের ভূমিকা হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করা হয়। এই বাস্তবতায় নাগরিক অধিকারকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক পরিসর তৈরির লক্ষ্যে এনপিএর যাত্রা শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সঞ্চালক মীর হুযাইফা আল মামদূহ জানান, আগামী সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এনপিএর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ গানটি সমবেত কণ্ঠে গাওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
@ইয়াসমিন রিমা