ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে তীব্র শীতের মধ্যে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও গরমের সংকটে পড়েছে লাখো মানুষ। জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ আমদানির নির্দেশ দিয়েছে ইউক্রেন সরকার।
শুক্রবার পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শ্মিহাল বলেন, “ইউক্রেনে এমন কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র নেই, যেটিতে শত্রুপক্ষ হামলা চালায়নি।” তিনি জানান, রাজধানী কিয়েভ ছাড়াও ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, খারকিভ ও ওডেসা অঞ্চলের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ।
ফ্রন্টলাইনের কাছাকাছি পূর্ব ইউক্রেনের বহু শহরে কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ ও তাপের ব্যবস্থা নেই। শ্মিহাল বলেন, বর্তমান জ্বালানি মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ ২০ দিন চাহিদা মেটানো সম্ভব।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রুশ হামলার পর রাজধানীতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের মাত্র অর্ধেক সরবরাহ করা যাচ্ছে। প্রায় ৩৬ লাখ মানুষের শহর কিয়েভে প্রয়োজন ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তিনি বলেন, “চরম শীতে এটাই প্রথম, যখন শহরের বড় একটি অংশ গরম ও বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।”
খারকিভ শহরে রুশ হামলায় একটি বড় জ্বালানি স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিটির মেয়র ইহোর তেরেখভ। এতে অন্তত ৪ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। জরুরি উদ্ধার ও মেরামতকাজ চলছে।
জাতিসংঘও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, এ শীতে রুশ হামলায় লাখো ইউক্রেনীয় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ, পানি ও গরম থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের ওপর।
জ্বালানিমন্ত্রী শ্মিহাল বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি জরুরি বিদ্যুৎ আমদানির নির্দেশ দিয়েছেন এবং বছরের শেষ নাগাদ অন্তত ২ দশমিক ৭ গিগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি শীত মৌসুমে মোট চাহিদার অন্তত ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য একটি তহবিল আহ্বান করা হয়েছে। নরওয়ে ইতোমধ্যে ২০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনার জন্য ইউক্রেনের একটি প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, রাশিয়ার ওপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করা গেলে যুদ্ধের অবসান সম্ভব।


