ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ঘটনাকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির আরেকটি লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দক্ষিণ লেবাননের মানসুরি এলাকায় একটি গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় একজন নিহত হন। এর আগের রাতে দক্ষিণের মায়ফাদুন শহরে আরেকটি হামলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, মায়ফাদুনে নিহত ব্যক্তি হিজবুল্লাহর সদস্য ছিলেন এবং তিনি সংগঠনের অবকাঠামো পুনর্গঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এদিকে পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকায়ও একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব হামলার আগে ওই এলাকার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী ইউনিফিল (UNIFIL) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের অবস্থানের ওপর একটি ড্রোন থেকে গ্রেনেড ফেলা হয়েছে। গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত করা যায়নি। ইউনিফিল বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বেসামরিক মানুষ ও শান্তিরক্ষীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে এবং এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ১৭০১-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
১৯৭৮ সালে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর ইউনিফিল গঠিত হয় এবং ২০০৬ সালের যুদ্ধের পর তাদের দায়িত্ব আরও সম্প্রসারিত হয়। বর্তমানে লিতানি নদীর দক্ষিণে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে ১০ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষী মোতায়েন রয়েছে। তবে জাতিসংঘ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ধাপে ধাপে ইউনিফিলের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল নিয়মিতভাবে লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলায় ইতোমধ্যে শত শত মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং ইসরায়েলি বাহিনী এখনো লেবাননের কয়েকটি কৌশলগত পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করছে।
এ অবস্থায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপ বাড়ছে বলে লেবাননের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই চাপের ফলে ইসরায়েল আরও বড় পরিসরে হামলা জোরদার করতে পারে।


