ট্রাম্পের দখল হুমকির প্রতিবাদে ডেনমার্কে ‘হ্যান্ডস অফ গ্রিনল্যান্ড’ বিক্ষোভ

ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির প্রতিবাদে ডেনমার্কজুড়ে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নেমেছেন। শনিবার ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে আয়োজিত ‘হ্যান্ডস অফ গ্রিনল্যান্ড’ শীর্ষক এই সমাবেশে অংশ নেন ডেনিশ ও গ্রিনল্যান্ডবাসীরা।

কোপেনহেগেনের সিটি হলের সামনে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পতাকা হাতে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। তারা গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় ভাষায় দ্বীপটির নাম উচ্চারণ করে ‘কালাল্লিত নুনাআত’ স্লোগান দেন। একই দিনে আরহুস, আলবর্গ, ওডেনসে শহরসহ গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

ডেনমার্কে বসবাসরত গ্রিনল্যান্ডবাসীদের সংগঠন ‘উয়াগুত’-এর চেয়ারম্যান জুলি রাডেমাখার বলেন, “গ্রিনল্যান্ডবাসীরা যে বিপুল সমর্থন পাচ্ছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে আমরা বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলতে চাই—এখনই জেগে উঠতে হবে।”তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের লড়াইয়ে গ্রিনল্যান্ড ও এর জনগণ অনিচ্ছাকৃতভাবেই সম্মুখভাগে এসে দাঁড়িয়েছে।”

এই বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণা। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করলে ইউরোপের কয়েকটি দেশের ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য। ট্রাম্প জানান, ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে এবং গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।

গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক উভয়ই স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনে ব্যর্থ হন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, “প্রেসিডেন্টের গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা যে স্পষ্ট, তা পরিষ্কার হয়ে গেছে।”

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের ৮৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিরোধিতা করেন, আর মাত্র ৬ শতাংশ এর পক্ষে মত দিয়েছেন।
এদিকে ন্যাটো জোটভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডে সামরিক মহড়া ও সেনা মোতায়েন শুরু করেছে। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, নরওয়ে, সুইডেনসহ একাধিক দেশ জানিয়েছে, তারা আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কিছু সদস্য—এমনকি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজনও—এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ এবং ডেনমার্ক আমাদের ন্যাটো মিত্র। আমার মতে, এ আলোচনার এখানেই শেষ হওয়া উচিত।”

গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় একসঙ্গে থাকাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

  • Related Posts

    জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক,

    ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো। সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে…

    নেপালে বন্যার ক্ষতি, পুনর্গঠনে লাগতে পারে ৫ বিলিয়ন ডলার

    ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক জলপ্রবাহে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর এবার সামনে এসেছে পুনর্গঠনের বড় চ্যালেঞ্জ। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু, অবকাঠামো ও…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *