ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: টানা ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় মোজাম্বিকে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক মানুষ পানিতে ঘেরা অবস্থায় ছাদের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল চাপো বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) দাভোস সম্মেলনে যোগদানের সফর বাতিল করেছেন।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট চাপো জানান, “এই মুহূর্তে আমাদের একমাত্র অগ্রাধিকার হলো মানুষের জীবন রক্ষা করা।”
দক্ষিণাঞ্চলীয় গাজা প্রদেশের চোকওয়ে শহরের বাসিন্দা সেলেস্তে মারিয়া জানান, ভারী বৃষ্টির সতর্কতার পর তিনি ও তার পরিবার ঘর ছেড়ে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে আশ্রয় নেন। ফোনে তিনি বলেন, “আমাদের বাড়ি পুরোপুরি পানির নিচে। অনেক প্রতিবেশী এখন ছাদের ওপর আশ্রয় নিয়ে আছে, আর পানি ক্রমেই বাড়ছে।”
গাজা প্রদেশের প্রাদেশিক পরিষদের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে গাছ ডুবে গেছে, কেবল ডালের মাথাগুলোই দৃশ্যমান। একই সঙ্গে রাজধানী মাপুটোর উত্তরে অবস্থিত প্রাদেশিক রাজধানী শাই-শাইয়ের একটি জনসমাগম এলাকায় কুমির দেখা যাওয়ার সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওচা) জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাজা প্রদেশ। দেশজুড়ে পাঁচটি প্রদেশে চার লাখের বেশি মানুষ এই বন্যার প্রভাবের মুখে পড়েছেন এবং প্রায় ২৯ হাজার ৬০০ ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা না গেলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বর্ষা মৌসুমে এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মোজাম্বিক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ছে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের মতে, এটি গত দুই দশকের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হতে পারে।
এদিকে প্রতিবেশী দক্ষিণ আফ্রিকা উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য একটি সামরিক হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে। বন্যার প্রভাব দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু এলাকাতেও পড়েছে, যদিও দেশটির বিখ্যাত ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক সোমবার আবারও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।


