ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের কারাগারগুলোতে ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে। কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭৫টি কারাগারে থাকা মোট ৮৪ হাজার ৪০০ বন্দির মধ্যে মাত্র ৬ হাজার ২৪০ জন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেছেন। বাকি ৭৮ হাজারের বেশি বন্দি নিবন্ধনের বাইরে রয়েছেন। নিবন্ধনকারীদের মধ্যে বর্তমানে কারাগারে আছেন ৫ হাজার ৯২০ জন, বাকিরা জামিনে মুক্ত হয়েছেন। বন্দিরা এবার প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এদিকে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ থাকা প্রার্থীদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক চলছে। নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষে ২৪ জনের মধ্যে ২১ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে। এ তালিকায় বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা রয়েছেন। কমিশনের সিদ্ধান্তে কোথাও একই ধরনের অভিযোগে ভিন্ন ভিন্ন রায় দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে রাজনৈতিক দলগুলো।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। বিএনপি কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করেছে, প্রশাসনের একটি অংশ পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। অন্যদিকে জামায়াতও মনোনয়ন যাচাইয়ে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্তের অভিযোগ জানিয়েছে।
অন্য সংবাদে জানা গেছে, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে নির্বাচন কমিশন থেকে ৪০০ জনের বেশি প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। কমিশন বলছে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতেই আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ভোট ব্যবস্থায় বড় পরিসরে সরকারি চাকরিজীবী ও প্রবাসীদের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রায় ছয় লাখ সরকারি কর্মচারী পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন।
সব মিলিয়ে নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং নতুন ভোটিং ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।