ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে ন্যায়, ইনসাফ ও পরিবর্তনের পক্ষে এক নতুন স্রোত তৈরি হয়েছে, আর জনগণ বস্তাপচা রাজনীতি, দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে সাতক্ষীরার চারটি আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।
তিনি দাবি করেন, দেশের যুবসমাজ ইতোমধ্যে ইনসাফ ও সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং পুরোনো ও নতুন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বক্তব্যে নারীর সম্মান ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মায়ের সম্মান রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, সেদিন দুটি ভোট হবে একটি সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং অন্যটি পরিবর্তনের পক্ষে ভোট। তাঁর ভাষায়, “‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি।” তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ জিতলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অবসান হবে এবং ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে পারবে না। দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে তিনি “ইনসাফের ভোট” হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অন্য কোনো রাষ্ট্রকে প্রভু হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না। সাতক্ষীরার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন জেলা অবহেলিত ছিল। সুযোগ পেলে “মদিনার শাসনের আদলে সুশাসন” প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ তুলে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা বলেন এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ইনসাফভিত্তিক বেতনকাঠামোর প্রতিশ্রুতি দেন, যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ পেশার জন্য আলাদা বেতন কাঠামো থাকবে।
পরে বিকেলে খুলনার সার্কিট হাউস মাঠে আরেক জনসভায় তিনি বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “একদিকে ফ্যামিলি কার্ড, আরেক দিকে মায়ের গায়ে হাত এ দুটি একসঙ্গে চলে না।” তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁদের বেকার ভাতা দিয়ে নয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সম্মানিত করা হবে।
খুলনার কৃষি ও শিল্পখাতের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত। ক্ষমতায় গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে উন্নয়ন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।
নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে তিনি সবাইকে মাথা ঠান্ডা রেখে জনগণের রায়ের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
@ইয়াসমিন রিমা