ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: পবিত্র রমজান মাসে আয়োজনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ‘অমর একুশে বইমেলা–২০২৬’ ঈদুল ফিতরের পর নেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দেশের প্রকাশকরা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেও এখন পর্যন্ত কোনো সদুত্তর পাননি বলে জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশকরা জানান, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমি ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু হবে। কিন্তু এই সময় রমজানের মধ্যে পড়ায় দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রকাশক মেলায় অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কায় আছেন।
প্রকাশকদের দাবি, রমজানের কারণে বাণিজ্যিকভাবে বড় ধরনের লোকসানের ঝুঁকি তৈরি হবে। এ পরিস্থিতিতে ৩১ জন প্রকাশক ফেব্রুয়ারির মেলায় অংশ নেবেন না বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন এবং আরও ১৫২ জন প্রকাশক অংশগ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস) এবং অধিকাংশ প্রকাশকের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে বইমেলা ঈদের পর আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, বইপড়ার সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে হলে প্রকাশকদের টিকিয়ে রাখা জরুরি। কিন্তু রমজানের মধ্যে মেলা শুরু হলে অনেকের পক্ষে অংশগ্রহণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশকরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে বইমেলার সময় ঈদের পর নির্ধারণ, প্রকাশকদের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় স্টল ভাড়া মওকুফ, সরকারি খরচে স্টলের কাঠামো তৈরি করে দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বই কিনতে উৎসাহিত করতে বিশেষ ‘বই ভাতা’ বা প্রণোদনা চালু। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সরকারি বই ক্রয় নীতি সংস্কারের দাবিও জানানো হয়।
অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, তারা এ বিষয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। তার ভাষ্য, রমজানের সময় মানুষ ঈদের কেনাকাটা ও স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে ব্যস্ত থাকেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকে ফলে বইমেলায় ক্রেতা উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে।
প্রকাশকদের মতে, ফেব্রুয়ারিতে মেলা হলে তারা ত্রিমুখী সংকটে পড়বেন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বাস্তবতা, লজিস্টিক ও নির্বাচনকালীন জটিলতা এবং মানবিক ও ধর্মীয় বাস্তবতা।
আদর্শ প্রকাশনার স্বত্বাধিকারী মাহাবুব রাহমানের সঞ্চালনায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন অনন্যা প্রকাশকের মনিরুল হক, প্রথমা প্রকাশনের মোবারক হোসেন, কাকলী প্রকাশনার নাসির আহমেদ, হৃদম প্রকাশনার গফুর হোসেন ও বাপুসের সাবেক সভাপতি আলমগীর শিকদারসহ অনেকে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রকাশকরা জানান, সর্বস্তরের প্রকাশকদের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে।
@ইয়াসমিন রিমা