ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে উপসাগরীয় অঞ্চলে মহামারির পর সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দর বন্ধ, সমুদ্রবন্দর কার্যক্রম স্থগিত এবং শেয়ারবাজারে তীব্র অস্থিরতায় অঞ্চলজুড়ে অর্থনীতিতে ধাক্কা লেগেছে।
হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দুবাই এবং আবু দাবি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। উপসাগরের প্রায় সব প্রধান রাষ্ট্রই কোনো না কোনোভাবে হামলার আওতায় এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রোববার লেনদেন শুরুর পর উপসাগরীয় শেয়ারবাজারগুলোতে বড় পতন দেখা যায়। সৌদি আরবের সূচক শুরুতে ৪ শতাংশের বেশি পড়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ২.২ শতাংশ কমে বন্ধ হয়। ওমান ও মিশরেও সূচক নিম্নমুখী ছিল। কুয়েত স্টক এক্সচেঞ্জ অনির্দিষ্টকালের জন্য লেনদেন স্থগিত রাখে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাজার সোমবার খোলার কথা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনা চলতে থাকলে বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকবে। আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিক্রির চাপ বাড়ান, যদিও স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা তা কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
হামলায় Dubai International Airport এবং Zayed International Airport ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুটি স্থানে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১১ জন আহত হন। Jebel Ali Port-এর একটি জেটিতে আগুন ধরে যায়।
অঞ্চলটির আকাশসীমা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকায় দুবাই, আবুধাবি ও দোহাসহ প্রধান ট্রানজিট বিমানবন্দরগুলোতে হাজারো ফ্লাইট বাতিল বা সীমিত করা হয়েছে। এতে পর্যটন ও ট্রানজিট বাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়েছে।
হামলার সময়টি এসেছে পবিত্র রমজান মাসে—যখন ইফতার ও সেহরিকে কেন্দ্র করে করপোরেট নেটওয়ার্কিং আয়োজন উপসাগরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইমেইল সূত্রে জানা গেছে, Emirates, Masdar, Mubadala এবং GEMS Education-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।
দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহ এলাকার আবাসিক অঞ্চলেও হামলা আঘাত হানে। Fairmont The Palm-এ আগুন লাগে এবং Burj Al Arab আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিলাসবহুল আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগ বেড়েছিল; এই ক্ষতি সেই খাতে বড় প্রতীকী ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দূরবর্তী কর্মপদ্ধতির নির্দেশনা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল শ্রম কর্তৃপক্ষ ৩ মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে রিমোট বা বাসা থেকে কাজের ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছে। জরুরি সেবা ছাড়া কর্মীদের খোলা স্থানে কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়ায় সৌদি আরব ও কাতারের মতো উৎপাদক দেশগুলো সাময়িক আর্থিক সুরক্ষা পেতে পারে। তবে শিপিং ঝুঁকি ও আঞ্চলিক অনিশ্চয়তা বাড়লে বাণিজ্য, লজিস্টিকস ও পর্যটন—বিশেষত আমিরাতে—চাপের মুখে পড়বে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের দীর্ঘদিনের স্থিতিশীল ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা ভাবমূর্তি এই সংঘাতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা এখন নির্ভর করছে সামরিক উত্তেজনা কতটা কমে আসে তার ওপর।


