ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১৩ নিহত, নিহতদের মধ্যে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারী ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নতুন করে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু, এক অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
রোববার গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। এতে একই পরিবারের তিনজন—ত্রিশোর্ধ্ব এক দম্পতি ও তাদের ১০ বছর বয়সী ছেলে নিহত হন। স্থানীয় আল আকসা হস্পিটাল জানায়, নিহত ওই নারী যমজ সন্তানের গর্ভে ছিলেন। হামলায় পাশের বাড়ির ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরও নিহত হয়।
এদিকে গাজার কেন্দ্রীয় শহর আজ-জাওয়াইদার কাছে ফিলাডেলফি করিডোর এলাকায় একটি পুলিশ গাড়িকে লক্ষ্য করে আরেকটি হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। নিহতদের মধ্যে গাজার মধ্যাঞ্চলের একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা কর্নেল ইয়াদ আবু ইউসুফও রয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে ‘জঘন্য অপরাধ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, নিহত পুলিশ সদস্যরা রমজান মাসে বাজার তদারকি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সীমান্ত পরিস্থিতির কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ইসরায়েল জানিয়েছে, মিশরের সঙ্গে সংযুক্ত গাজার গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ রাফাহ ক্রসিং আংশিকভাবে আগামী বুধবার পুনরায় চালু করা হবে। প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর সীমিত আকারে যাত্রী চলাচলের জন্য এটি খুলে দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে গাজায় প্রায় ২০ হাজার অসুস্থ ও আহত মানুষ চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ক্যান্সার রোগী এবং প্রায় ৪ হাজার ৫০০ শিশু রয়েছে। প্রায় ৪৪০ জন রোগীর অবস্থা জীবনঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, গাজায় প্রতিদিন অন্তত ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র প্রায় ২০০টি ট্রাক প্রবেশ করতে পারছে। ফলে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।


