ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের নৌ-মিশন জোরদার করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সোমবার ব্রাসেলসে ইইউভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ বিষয়ে বৈঠক করবেন বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইইউর বর্তমান নৌ-মিশন “অ্যাসপাইডেস” জোরদার করার বিষয়টি আলোচনায় থাকবে।Operation Aspides নামে পরিচিত এই নৌ-মিশনটি ২০২৪ সালে চালু করা হয়। মূলত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে লোহিত সাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজকে সুরক্ষা দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য। বর্তমানে ইতালি ও গ্রিসের একটি করে যুদ্ধজাহাজ সরাসরি এই মিশনে নিয়োজিত রয়েছে, পাশাপাশি ফ্রান্স ও ইতালির আরও কিছু জাহাজ সহায়তা দিতে পারে।
তবে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কিছু ইউরোপীয় কর্মকর্তা মনে করছেন, ইইউর নৌ-মিশনটি সম্প্রসারণ করে হরমুজ প্রণালিতেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে সবাই একমত নন।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী Johann Wadephul বলেছেন, বর্তমান দায়িত্ব পালনে “অ্যাসপাইডেস” মিশন তেমন কার্যকর নয়। তাই এটিকে হরমুজ প্রণালিতে সম্প্রসারণ করলে নিরাপত্তা আরও বাড়বে—এ বিষয়ে তিনি সন্দিহান।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল সরবরাহে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফ্রান্স ইতিমধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে। তবে ইইউ সরাসরি এতে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।


