ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ হাম আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত তিন মাসে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ৬ শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিয়েছে, যা স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল-এ রোগীর উপচে পড়া ভিড়। হামসহ বিভিন্ন শিশুরোগ বাড়ায় চিকিৎসক ও স্টাফরা চাপের মধ্যে সেবা দিচ্ছেন। বর্তমানে হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ৭২ শিশু ভর্তি রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং একজনকে রাজশাহীতে রেফার্ড করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, একই সময়ে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগে নতুন করে ১১০ শিশু ভর্তি হয়েছে এবং বর্তমানে ১৭০ জন চিকিৎসাধীন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে অনেক শিশুকে মেঝেতে থেকেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আইসোলেশন ও জনবল সংকটের কারণে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে, ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তারা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
জেলা হাসপাতালের শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মাহফুজ রায়হান বলেন, প্রথমে নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের মধ্যেই হামের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এরপর থেকে দ্রুত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নয় মাসের নিচের শিশু বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এবং টিকা না নেওয়াই এর অন্যতম কারণ। গুরুতর শ্বাসকষ্ট বা আইসিইউ প্রয়োজন হলে রোগীদের রাজশাহীতে পাঠানো হচ্ছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় আড়াইগুণ রোগী ভর্তি রয়েছে, যার বড় একটি অংশই শিশু। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকা গ্রহণ, আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনে রাখা এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
@ইয়াসমিন রিমা


