ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনিয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেফ্রি ক্রুজকে বরখাস্ত করার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ক্রুজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো মার্কিন বোমা হামলায় তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। অথচ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এসব স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সত্য তথ্য প্রকাশের কারণে ক্রুজকে সরিয়ে দেওয়াটা আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত। এ সিদ্ধান্ত ইরানের কাছে অশুভ সংকেত হিসেবে ধরা পড়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইতিমধ্যে বলেছেন, তাঁরা আর পশ্চিমাদের ‘প্রতারণামূলক কূটনীতি’র ফাঁদে পড়বেন না।
ইরানের সামরিক মহলে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগের মতো প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান না নিয়ে এবার তেহরান আগাম হামলার কৌশল নিতে পারে। সম্প্রতি ইরান ‘আখির আল-জামান’ নামের একটি বহু ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে, যা শব্দের গতির ১২ গুণ পর্যন্ত যেতে সক্ষম। এতে আঞ্চলিক শক্তি-সামঞ্জস্যে বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে।
এদিকে চীন ও রাশিয়ার বাড়তি সমর্থন ইরানের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করছে। চীন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিচ্ছে, রাশিয়া দিচ্ছে গোয়েন্দা সহায়তা। ফলে এ সংঘাত এখন কেবল ইরান-মার্কিন বা ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব নয়; বরং বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গোয়েন্দা চাপ, ইরানের নতুন সামরিক কৌশল, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং চীন-রাশিয়ার অংশগ্রহণের কারণে দ্বিতীয় দফা ইরান-মার্কিন সংঘাত অনেক দ্রুত ঘটতে পারে।
@ইয়াসমিন রিমা, ভেতরের খবর