ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চার দিনের পাকিস্তান–আফগানিস্তান শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই বৈঠকের ব্যর্থতার জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করেছে।
আজ বুধবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক পোস্টে আফগান প্রতিনিধিদলকে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করেন। তবে আফগান কর্তৃপক্ষ পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল এবং তারা বারবার আলোচনা টেবিল ছেড়ে চলে গেছেন।
আলোচনায় আফগান পক্ষের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক উপমন্ত্রী হাজি নাজিব। পাকিস্তান কারা প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।
দোহায় প্রথম দফা বৈঠকের পর ১৯ অক্টোবর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থামিয়ে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এবার ইসলামাবাদ অভিযোগ করছে, আফগান আলোচক দল মূল দাবি থেকে সরে এসেছে যেখানে পাকিস্তানের দাবি ছিল কাবুলকে পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আফগান তালেবানদের জন্য টিটিপির বিরুদ্ধে যাওয়া মতাদর্শগতভাবে কঠিন। কারণ, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আদর্শিক মিল গভীর। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তান শুধু টিটিপিকেই নয়, বরং বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) ও ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশের মতো গোষ্ঠীকেও আশ্রয় দিচ্ছে। কাবুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই অবনতির দিকে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে দুই দেশের সেনা ও সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।
পাকিস্তানি বিশ্লেষক ইহসানউল্লাহ টিপু মেহসুদ বলেন, “তালেবান ও টিটিপির সম্পর্ক মতাদর্শিক। তাই আফগান সরকারের পক্ষে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া প্রায় অসম্ভব।”
সাংবাদিক সামি ইউসুফজাইয়ের মতে, এখন শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছে। তিনি সতর্ক করেছেন, পাকিস্তান যদি আফগান সীমান্তে হামলা চালায়, তবে তা জনগণের মধ্যে পাকিস্তানবিরোধী মনোভাব আরও বাড়িয়ে তুলবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নাকি ‘খুব দ্রুতই আফগানিস্তান-পাকিস্তান সংকট মিটিয়ে ফেলবেন’। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করেন, দুই দেশের পারস্পরিক অবিশ্বাস ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের পার্থক্যের কারণে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান পাওয়া এখনো কঠিন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে, যদিও শেষ মুহূর্তে কাতার ও তুরস্ক মধ্যস্থতায় আরেক দফা আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
@ইয়াসমিন রিমা, ভেতরের খবর


