ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান প্রায় এক মাস পর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তার বোন উজমা খানকে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রায় ২০ মিনিটের সেই সাক্ষাতে ইমরান খান জানিয়েছেন, তার স্বাস্থ্য ভালো থাকলেও তিনি “মানসিক নির্যাতনের শিকার” এবং “দিনভর ঘরে আটকে রাখা” হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
দিনের শুরুতে ইমরান খানের তিন বোন—আলিমা খানম, নওরীন নিয়াজি ও উজমা খান কারাগারের বাইরে গিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। কিছুক্ষণ পর কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কেবল উজমা খানের নামে অনুমতি রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, গত চৌঠা নভেম্বরের পর থেকে ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো সুযোগ তারা পাননি। তাদের আশঙ্কা, সরকারি কর্তৃপক্ষ ইমরান খানের বার্তা কারাগারের বাইরে যেতে দিচ্ছে না।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের বোনেরা অভিযোগ করেন, তাকে আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে, সংবাদপত্র ও টিভি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কারাগারের নিয়ম ভঙ্গ করে তাকে দীর্ঘ সময় একা রাখা হচ্ছে।
ইমরানের প্রাক্তন স্ত্রী জেমিমা খানও সামাজিক মাধ্যম X-এ দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেও পারছেন না, এমনকি চিঠিও পৌঁছায় না।
নওরীন খান দাবি করেন, সরকার চায় ইমরান খান যেন নয়ই মে-র হামলা ও ভাঙচুরের দায় স্বীকার করে এবং ক্ষমা চান। তবে ইমরানের বক্তব্য, সেনানিবাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ওই হামলা ‘বাইরের কারও পক্ষে অসম্ভব’ ছিল।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ বলেছেন, “একজন দণ্ডিত বন্দি কারাগারের ভেতর বসে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য বা আন্দোলন পরিচালনা করতে পারে না।”
তবে তিনি দাবি করেন, সাক্ষাৎ নিষেধাজ্ঞা কারা কর্তৃপক্ষই আরোপ করেছে, এ বিষয়ে সরকারের সরাসরি নির্দেশনার বিষয়ে তিনি ‘অবগত নন’।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছেন, পরিবার ও আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ পাওয়া প্রতিটি বন্দির মৌলিক অধিকার। পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন সরকারকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে।
পরিবারের দাবি, তিনি সুস্থ আছেন, নিয়মিত ব্যায়াম করছেন এবং নিজের নির্দেশনা অনুযায়ী খাবার রান্না করান। তবে দীর্ঘ সময় আইসোলেশনে রাখায় তার মানসিক চাপ বাড়ছে বলে মনে করেন তার বোনেরা।