ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বাড়তে থাকায় লাতিন আমেরিকা আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন, সেনা সমাবেশ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হামলার ইঙ্গিত সব মিলিয়ে নতুন করে সামনে এসেছে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলভান্ডার দখলের আশঙ্কা।
ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেলের মজুতের দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য কর্তৃপক্ষ (ইআইএ) বলছে, দেশটিতে আছে ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল, যা বিশ্বে সংরক্ষিত মোট তেলের প্রায় ২০%। তবে নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে উত্তোলন নেমে এসেছে দিনে ১০ লাখ ব্যারেলে, যা আগের সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের বড় কারণ ভেনেজুয়েলার ভারী ও সালফারযুক্ত তেল। এই তেল থেকে ডিজেল ও শিল্পকারখানার জ্বালানি উৎপাদন সহজ, আর মার্কিন অনেক রিফাইনারি তৈরি হয়েছে ঠিক এই তেল প্রক্রিয়াজাত করার জন্য। সস্তা মূল্য, কাছাকাছি অবস্থান এবং বিভিন্ন শিল্পের চাহিদা মেটাতে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে আছে। বর্তমানে দেশটি প্রতিদিন আমদানি করছে ১ লাখ ২ হাজার ব্যারেল ভেনেজুয়েলান তেল।
মাদুরোর পতন হলে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে দেশটির তেল উৎপাদন আবার বাড়তে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য সুবিধাজনক। এতে বৈশ্বিক বাজারে তেলের সংকট কমবে এবং দামও নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। তবে পুরো সক্ষমতা পুনর্গঠনে লাগবে কয়েক বছর সময় ও অন্তত ৫৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেলভান্ডার বিশ্ব রাজনীতির একটি বড় শক্তিকেন্দ্র। রাশিয়ার মতো দেশগুলো ভারী তেলের বাজারে প্রভাবশালী হলেও, ভেনেজুয়েলার উৎপাদন বেড়ে গেলে রাশিয়ার বাজারও সংকুচিত হতে পারে। তাই মাদুরো সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপের নেপথ্যে এই তেলই অন্যতম কারণ এমন ধারণা করছেন লাতিন আমেরিকার নেতারা।