ভেতরের খবর নিউজ ডেস্ক: ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ আহ্বানে সাড়া দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে ইরানি কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলো। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রকৃত যুদ্ধলক্ষ্য স্পষ্ট না হওয়ায় কুর্দি নেতারা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনী নিহত হওয়ার পর দেশটিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ইরানের জনগণকে সরকার উৎখাতের আহ্বান জানান এবং কুর্দি যোদ্ধাদের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানকে সমর্থনের ইঙ্গিত দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে কুর্দিরাই সবচেয়ে সংগঠিত এবং সামরিকভাবে অভিজ্ঞ। দীর্ঘদিন ধরে তারা ইরানের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলন ও সশস্ত্র প্রতিরোধ চালিয়ে আসছে।
ইরানি কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর অনেকেই বর্তমানে উত্তর ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থান করছে। সেখান থেকে তারা রাজনৈতিক ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। সম্প্রতি তারা “কোয়ালিশন অব পলিটিক্যাল ফোর্সেস অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তান” নামে একটি সমন্বয় প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছে, যার লক্ষ্য ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া।
তবে সামরিক শক্তির দিক থেকে কুর্দি গোষ্ঠীগুলো তুলনামূলকভাবে দুর্বল। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের স্থলবাহিনীর সদস্যসংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ, যেখানে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর সম্মিলিত যোদ্ধা সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০ হাজারের মতো হতে পারে। ফলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে হলে তাদের যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হবে।
কুর্দি নেতাদের মধ্যে আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো অতীতের অভিজ্ঞতা। মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের বিদ্রোহে উৎসাহ দিলেও পরে তাদের পর্যাপ্ত সমর্থন দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন করে সংঘাতে জড়ালে তারা একা পড়ে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে ইরান সতর্ক করে বলেছে, কুর্দি গোষ্ঠীগুলো যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে তাদের ঘাঁটির ওপর বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অনেক কুর্দি নেতা বর্তমান পরিস্থিতিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের একটি সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবেও দেখছেন। তবে তারা এখনো অপেক্ষা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত অবস্থান পরিষ্কার হওয়ার জন্য।


